
আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলা দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর এবং ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভুসহ জড়িতদের বিচার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা।
বুধবার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে এক মানববন্ধনে সমিতির নেতারা এ দাবি জানান। আইনজীবীদের মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি একপাশে অবস্থান নেন সেনা সদস্যরাও।
এদিকে বৃহস্পতিবার চিন্ময় প্রভুর জামিন আবেদন শুনানির নির্ধারিত তারিখ রয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই শুনানিকে কেন্দ্র করেই আইনজীবী সমিতি মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সাইফুল ইসলাম আলিফের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনায় যারা জড়িত ছিলেন তাদের সবাইকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। নতুন বছরের প্রথমদিনে সবাই খুশি উদযাপন করলেও চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতি শোকাহত। কারণ ইসকনের সন্ত্রাসীরা তাদের এক ভাইকে নারকীয়ভাবে হত্যা করেছে। ১৩১ বছরের ইতিহাসে আদালত প্রাঙ্গণে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমরা সাইফুল হত্যা ও আদালত ভবনে তাণ্ডবের ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন চৌধুরী রাজ্জাক বলেন, আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ এখনো বন্ধ হয়নি। দাবি স্পষ্ট এবং একটাই। যে বা যারা আমাদের ভাইকে হত্যা করেছে সেই হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত তদন্ত শেষ করে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আবদুল কাদের, সহ-সভাপতি মো. মাহফুজুর রহমান, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কাশেম কামাল, অর্থ সম্পাদক কাজী মো. আশরাফুল হক আনসারী, পাঠাগার সম্পাদক আহমেদ কবির, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মারুফ মো. মাজেবুল আলম প্রমুখ।
গত ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন আবেদন নাকচ করে ইসকন নেতা চিন্ময় দাসকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-৬ কাজী শরিফুল ইসলাম। সেদিন তাকে বহন করা প্রিজনভ্যান আটকে রাখে তার অনুসারীরা। এ সময় চিন্ময় অনুসারীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ইসকন অনুসারীদের হামলায় জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। এ ঘটনায় তার পিতা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।