
বিপিএল আসছে, এরপর আছে ব্যস্ত এক মৌসুম। তার আগে নাজমুল হোসেন শান্ত নিজেকে ঝালিয়ে নিচ্ছেন ভালোভাবেই। তারই অংশ হিসেবে এবার তামিম ইকবালের শিষ্যত্ব গ্রহণ করলেন তিনি।
গত ১৭ ডিসেম্বর বিসিবির ইনডোরে অনুশীলন করেন তিনি। সেখানেই তার তত্ত্বাবধান করেছেন তামিম। বিষয়টা শান্তই ফেসবুকে জানান। বলেন, ‘তামিম ভাইয়ের সাথে দারুণ একটা সেশন হয়েছে। অনেক ধন্যবাদ ভাই, আপনার মূল্যবান সময়, দিক-নির্দেশনা এবং দারুণভাবে সহযোগিতা করার জন্য।’
শান্তর অনুরোধেই তামিম সেদিন ছুটে গিয়েছিলেন ইনডোর অনুশীলনে। বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক একটি গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমি নিজে ফোন করেছিলাম। আমার কিছু বিষয় নিয়ে ব্যাটিংয়ের একটু পরামর্শ প্রয়োজন ছিল। কিছু টেকনিক্যাল বিষয় ও গেইম সেন্সের কিছু বিষয় নিয়েও আলাপ করেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে উনাকে (তামিম ইকবাল) ফোন করেছিলাম, ফোন করে ডেকেছি এবং উনি খুবই আনন্দের সঙ্গে এসেছেন। আমি মনে করি আমার জন্য খুবই ভালো একটা ব্যাপার ছিল, নিজেকে খানিকটা ভাগ্যবানও বলব যে উনি (তামিম) এত ব্যস্ততার মধ্যে এসেছেন এবং আমাকে লম্বা একটা সময় দিয়েছেন। আমি যে জিনিসটা নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম সেটা পুরোপুরি করতে পেরেছি।’
তামিমের দ্বারস্থ কেন হয়েছিলেন, সে প্রশ্নের জবাবে শান্ত বলেন, ‘প্রথমত, আমি যেই বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছি এটার জন্য আমি মনে করি শুধু বাংলাদেশ নয়, আমার জন্য উনি (তামিম) বিশ্বের অন্যতম একজন। এটার পেছনে আরেকটা কারণ হচ্ছে আমিও বাঁহাতি ব্যাটার, উনিও বাঁহাতি ব্যাটার। যেই বিষয়টা নিয়ে কাজ করেছি সেটাতে উনি অনেক সফল।’
একাধিক বলে শান্তর সমস্যা আছে। ইনকামিং বলে নড়বড়ে তিনি, ফুটওয়ার্ক নিয়েও সমস্যা হয় হরহামেশাই। তেমন কোনো সমস্যা নিয়েই কাজ হয়েছে তার। তিনি বলেন, ‘একটা সময় উনি স্ট্রাগল করতেন কিন্তু পরবর্তীতে দেখা গেছে ওই জায়গা থেকে উনি ওভারকাম করেছেন। সবকিছু চিন্তা করে আমার কাছে মনে হয়েছে আমার জন্য উনিই সবচেয়ে সেরা পার্সন ওই জিনিসটা ঠিক করার জন্য। কালকে খুব ভালো একটা আলোচনা হয়েছে, পাশাপাশি একটু ব্যাটিংয়েরও সুযোগ হয়েছে। সুতরাং আশা করছি এই জিনিসটা সামনের দিনে আমাকে সহায়তা করবে।’
তামিম আনন্দ নিয়েই কাজ করেছেন শান্তর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ওই কমফোর্টটা ফিল করেছি এবং আমার কাছে মনে হয়েছে তার কাছ থেকে আমি ওই সহায়তা টুকু পাব। আপনারা জানেন আমি সোহেল স্যারের সাথে সবসময় ব্যাটিং নিয়ে কাজ করি। সোহেল স্যারের সঙ্গে আলোচনা করে তারপর কিন্তু আমি তামিম ভাইকে ডেকেছি। যেটা বললাম উনি আনন্দের সঙ্গে এসেছেন এবং আমাকে সহায়তা করেছেন। আমার ওই কমফোর্ট জোনটা ছিল, আমি মন খুলে কথা বলতে পেরেছি। আমার যেই সমস্যাগুলো হচ্ছিল সেগুলো নিয়ে কথা বলেছি। আমার জায়গায় আমি নিশ্চিত করতে পারি— আমি খুব কমফোর্টেবলভাবে কাজ করেছি।’