গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। ঢাকার শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এম এ আউয়াল (সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ) রবিবার এ আদেশ দেন। আদালতে জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন। আর কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। ড. ইউনূসের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল মামুন কালের কণ্ঠকে বলেন, জামিন মঞ্জুরের আগে আদালত বলেছেন- শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করলে নিয়ম হচ্ছে একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আসামিদের জামিন দেওয়া। পরবর্তীতে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত জামিন দিয়ে থাকেন। তিনি বলেন, আমরা আমাদের আবেদনে আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত জামিন চেয়েছিলাম। তখন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের আইনজীবী এতে আপত্তি জানিয়েছেন। তখন আদালত আগামী ১৬ এপ্রিল পরবর্তী শুনানির তারিখ রেখেছেন। আর জামিনের মেয়াদের বিষয়টি পরে জানিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। ফলে আপিল নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত নাকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য জামিন দেওয়া হয়েছে, তা এখন বলতে পারছি না। লিখিত আদেশ পেলে বলতে পারব। ২০২১ সালের সরকারি সংস্থা কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান এ মামলা করেছিলেন। এতে শ্রমিক অংশগ্রহণ ও কল্যাণ তহবিল গঠন এবং তহবিলে নিট মুনাফার ৫ শতাংশ না দেওয়া, শ্রমিক-কর্মচারীদের অর্জিত ছুটি মজুরিসহ নগদায়ন না করা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের চাকরি স্থায়ী না করার জন্য শ্রম আইনের ৪-এর ৭, ৮, ১১৭ ও ২৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে শ্রম আইনের ৩০৩(ঙ) ও ৩০৭ ধারার অধীনে অপরাধের অভিযোগ এনে গত বছর ৬ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। পরে ২২ আগস্ট থেকে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। কলকারকানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের চার পরিদর্শক এ মামলায় সাক্ষ্য দেন। গত বছর ৬ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে ৯ নভেম্বর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার বিবাদী আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য দেন। এ মামলা উদ্দেশ্যপূর্ণ, অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং নিজেদের নির্দোষ দাবি করে মামলা অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চান আসামিরা। পরে বাদী-বিবাদীপক্ষের যুক্তিতর্ক শুরু হয়। গত ২৪ ডিসেম্বর উভয় পক্ষের চূড়ান্ত যুক্তিতর্কের পর চলতি ১ জানুয়ারি রায় ঘোষণা করেন শ্রম আদালতের বিচারক শেখ মেরিনা সুলতানা। রায়ে ড. ইউনূসসহ চার আসামিকে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেন। সঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। সাজাপ্রাপ্ত অন্য তিনজন হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও মো. শাহজাহান। পরে এ কারাদণ্ড ও জরিমানার বিরুদ্ধে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার দণ্ডিত আপিল করেন। গত ২৮ জানুয়ারি সে আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে ৩ মার্চ পর্যন্ত তাঁদের জামিন দেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) এম এ আউয়াল। সে ধারাবাহিকতায় চার জনের জামিন আবেদন করা হলে তাঁদের জামিন দেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল।