
শেয়ারবাজারে লোকসানি ও আর্থিকভাবে দুর্বল মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি নিয়ন্ত্রক সংস্থার ধারাবাহিক ছাড় অব্যাহত রয়েছে। নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লোকসানে ডুবে থাকা আরও ৬টি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রভিশন সংরক্ষণ ও সমন্বয়ের সময়সীমা শর্তসাপেক্ষে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এতে বাজারে আবারও প্রশ্ন উঠেছে—লোকসানি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় কমিশনের এই নমনীয়তা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীদের স্বার্থকে কতটা উপেক্ষা করছে।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৮৯তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে কমিশনের পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালামের সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণের সাপেক্ষে তাদের নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লোকসানের বিপরীতে প্রভিশন সংরক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য বাড়তি সময় দেওয়া হয়েছে।
এই সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি ব্রোকারেজ হাউজ ও একটি মার্চেন্ট ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো এনবিএল সিকিউরিটিজ লিমিটেড, ইউনিক্যাপ সিকিউরিটিজ লিমিটেড, লংকাবাংলা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, নিউ ইরা সিকিউরিটিজ লিমিটেড, কবির সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং এনবিএল ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড। দীর্ঘদিন ধরে লোকসানে থাকা এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই ‘আরও এক দফা ছাড়’ হিসেবেই দেখছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, যেসব স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও মার্চেন্ট ব্যাংকার এখনো বোর্ড অনুমোদিত অ্যাকশন প্ল্যান কমিশনে জমা দেয়নি, তাদের অবশ্যই আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তা দাখিল করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাকশন প্ল্যান জমা দিতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কোনো ছাড় ছাড়াই পূর্ণ প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়। এর আগেও ধাপে ধাপে একের পর এক লোকসানি প্রতিষ্ঠানকে একই ধরনের সময়সীমা বৃদ্ধির সুবিধা দিয়েছে বিএসইসি। গত ১৪ নভেম্বর ২৮টি, ২৫ নভেম্বর ৮টি, ২ ডিসেম্বর ১১টি এবং ১৭ ডিসেম্বর আরও ৭টি প্রতিষ্ঠানকে নেগেটিভ ইক্যুইটি ও আনরিয়েলাইজড লোকসানের প্রভিশন সংরক্ষণে শর্তসাপেক্ষ ছাড় দেওয়া হয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, বাজার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে কঠোর অবস্থানের বদলে কমিশনের এই ধারাবাহিক নমনীয়তা শেয়ারবাজারকে আদৌ স্থিতিশীল করছে, নাকি দুর্বল প্রতিষ্ঠানগুলোকেই বারবার রক্ষা করছে।


