
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। মূল বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা।
বুধবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
শফিকুল আলম জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর সময়কালের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক এই ধারা বিবেচনায় নিয়ে সংশোধিত বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বা এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব আদায় করা হবে ৫ লাখ ৩ হাজার কোটি টাকা। কর-বহির্ভূত রাজস্ব খাত থেকে সরকার পাবে ৬৫ হাজার কোটি টাকা এবং এনবিআর-বহির্ভূত অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।
প্রেস সচিব জানান, চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের মোট আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা, যা মূল বাজেটের তুলনায় সামান্য কম। মূল বাজেটের আকার ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা।
সংশোধিত বাজেটে সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ শতাংশ।
সরকার আশা করছে, রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকলে সংশোধিত বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে অর্থনীতিতে কাঙ্ক্ষিত স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে গতি আসবে।


