
নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড, আকবর শাহ, পাহাড়তলী-খুলশী আংশিক) আসনে বিএনপির চূড়ান্ত মনোনয়নকে ঘিরে তৃণমূলের মধ্যে প্রশ্ন জাগছে—যিনি দীর্ঘদিন দলবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে জড়িত, তিনি কি আবার দলের প্রার্থী হতে পারেন? দলীয় সূত্র ও তৃণমূলের নেতারা বলছেন, লায়ন অধ্যাপক মোঃ আসলাম চৌধুরী জেলা পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে থেকেই দলকে দুর্বল করার তৎপরতায় যুক্ত ছিলেন। ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে দীর্ঘ সাড়ে আট বছরের কারাভোগ শেষে মুক্তি পাওয়ার পরও তিনি কোনো দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেননি। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ বা দলীয় কোনো প্রতীকী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণও তিনি করেননি।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মুক্তির পর সীতাকুণ্ডের আনাচে-কানাচে হাজার হাজার ব্যানার ও ফেস্টুনে শহীদ জিয়ার, বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি ছিল। আসলাম চৌধুরী ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে সেই সব ব্যানার নামানোর নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে তিনি নির্দেশ দেন, যদি ব্যানার লাগানো হয়, তবে শুধুমাত্র তার নিজের ছবি থাকবে, অন্য কারো ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করা যাবে না। এই পদক্ষেপ তৃণমূলের কাছে দলবিরোধী ও বিভ্রান্তিমূলক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
এছাড়াও তিনি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। “নতুন বাংলাদেশ” স্লোগান নিয়ে ঢাকাসহ চট্টগ্রাম ও দেশের বিভিন্ন স্থানে পোস্টারিং করা হয়, এবং দৈনিক আমাদের দেশ পত্রিকায় বিএনপির হাই কমান্ডকে দায়ী করে তিনি মন্তব্য করেছেন যে, দলের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্ষমতায় আসতে পারেনি। এসব কর্মকাণ্ড দলীয় শৃঙ্খলার পরিপন্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘদিন দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকা, দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বক্তব্য এবং নতুন দল গঠনের উদ্যোগের পাশাপাশি তিনি এখন জোর দিয়ে দাবি করছেন, ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এটি তখনই বিতর্ক তৈরি করেছে, যখন প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থী কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন মাঠে সক্রিয়, জনসভা, গণসংযোগ ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে যুক্ত।
দলীয় শৃঙ্খলার প্রশ্নে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণমাধ্যমে বলেছেন, প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্ত প্রার্থীকে দলীয় শৃঙ্খলা বিরোধী বা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ছাড়া পরিবর্তন করা হবে না। যদি দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহকারী কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হয়, তা দলের নীতির পরিপন্থী হবে।
তৃণমূলের ধারণা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীমের সঙ্গে আসলাম চৌধুরী জড়িত হয়ে মনোনয়ন আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন, কিন্তু এই তৎপরতার উৎস এবং পেছনের শক্তি এখনও পরিষ্কার নয়।
সেই তুলনায় কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিন প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়ার পর থেকেই মাঠে সক্রিয়, মানুষের মন জয় করছেন এবং দীর্ঘদিন পর চট্টগ্রাম–৪ এ দলের রাজনীতিতে প্রাণ ফিরিয়েছেন। তৃণমূলের কাছে বার্তা স্পষ্ট—ধানের শীষের দায়িত্ব মাঠে থাকা, প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ও সংগঠিত নেতৃত্বের হাতেই থাকা উচিত।
এখন প্রশ্ন একটাই—দল কি প্রাথমিক মনোনয়নপ্রাপ্ত নেতা বাদ দিয়ে এবং দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত একজনকে আবারও প্রার্থী হিসেবে নেবে, নাকি মাঠের, পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতা কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনকেই চূড়ান্তভাবে আস্থা দেবে? চট্টগ্রাম–৪ এ উত্তরটাই এখন সকলের নজর ।


