
শহীদুল ইসলাম শাহেদ,টেকনাফ প্রতিনিধি
মানব পাচার প্রতিরোধে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) দীর্ঘদিন যাবৎ ধারাবাহিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের জবানবন্দি, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের সমন্বয়ে মানব পাচারকারী চক্রগুলোর তৎপরতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের ধারাবাহিকতায় প্রাপ্ত গোপন সংবাদে জানা যায় যে, খুরেরমুখ চেকপোস্টের দায়িত্বপূর্ণ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন কাটাবুনিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় সংঘবদ্ধ পাচারকারীরা অবৈধভাবে বিদেশ গমনেচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তিকে সমুদ্রপথে পাচারের উদ্দেশ্যে একটি ট্রলারে প্রস্তুত করে রেখেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২ বিজিবির অধিনায়কের নির্দেশনায় একটি বিশেষ দল গভীর রাতে আনুমানিক ০১০০ ঘটিকায় স্থানীয় জেলেদের সহায়তায় সন্দেহজনক ট্রলারটি কৌশলে ঘিরে ফেলে, বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা ভুক্তভোগী বোঝাইকৃত ট্রলারটি দ্রুত অপসারণের চেষ্টা করলে অভিযানিক দল ধাওয়া করে মুন্ডার ডেইল সংলগ্ন শিশু পার্ক এলাকায় ট্রলারটি আটক করতে সক্ষম হয়। ট্রলারটিতে তল্লাশী চালিয়ে মোট ০৭ জন ভুক্তভোগীকে (পুরুষ-০৬ ও মাহিলা-০১) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদের মধ্যে ছদ্মবেশ ধারণকৃত মানব পাচার চক্রের সদস্য মোঃ আলম(১৯) কে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে পরিচয় গোপন করে চক্রটিকে ফাঁদে ফেলে বেশ কিছু অভিযান পরিচালনা করে রাত আনুমানিক ২০০০ ঘটিকায় মানব পাচার চক্রের অন্য সদস্য ইসমাঈল(২৮) কে আটক করা হয়।
ধৃত আসামীদের বিস্তারিত নিম্নরুপঃ
মোঃ আলম (১৯), পিতা-আব্দুর রহমান, সাং-০২নং কুতুপালং এফডিএমএন ক্যাম্প, ব্লক-ই/৭, থানা-উখিয়া, জেলা-কক্সবাজার।
ইসমাঈল (২৮), পিতা-আবু তাহের, মাতা-রশিদা বেগম, সাং-পুরানপল্লানপাড়া, ওয়ার্ড নং-০২, পোষ্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার।
পলাতক আসামীর বিস্তারিত নিম্নরুপঃ
ইউসুফ (২২), পিতা-মৃত হাকিম আলী, সাং-পুরানপল্লানপাড়া,ওয়ার্ড নং-০২, পোষ্ট-টেকনাফ, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার (মালেশিয়া প্রবাসী)।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা জানায়, অপরাধীদের কয়েকজন দোসর তাদেরকে বিভিন্ন প্রলোভন প্রদর্শন করেছে। যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ বেতনের চাকরি, সুবিধাজনক কর্মসংস্থান, দ্রুত ধনী হওয়ার স্বপ্ন, অল্প খরচে বিদেশ যাত্রা এবং ভিসাসহ বিমানে গমন ও পরবর্তীতে চাকুরির বেতনে বকেয়া পরিশোধের সুযোগ ইত্যাদি। এ ধরনের লোভনীয় প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে ভুক্তভোগীদেরকে প্রতারণার জালে ফেলে মাথাপিছু অর্থের বিনিময়ে পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেয়। এছাড়াও, তদন্তে মালয়েশিয়াতে বসবাসরত একজন সদস্যের সহায়তায় চক্রটি মানব পাচারের মত জঘন্য অপরাধ সংঘঠিত করবার তথ্য প্রমান পাওয়া গিয়েছে।
আটককৃত পাচারকারী চক্রের সদস্য ও উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগীদেরকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হবে।


