
জেনেক্স ইনফোসিস ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মুনাফা অর্জন করেছে মোট ২৬ কোটি ১৪ লাখ টাকা। শক্তিশালী মুনাফা সত্ত্বেও কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ঘোষণা করেছে মাত্র ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ—শেয়ারপ্রতি মাত্র ১০ পয়সা। যা মোট মুনাফার মাত্র ৩.২১ শতাংশ। বাকি থাকা ২৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা বা ৯৬.৭৯ শতাংশ সরাসরি স্থানান্তর করা হয়েছে রিটেইন আর্নিংসে, যা নিয়ে বাজারে তীব্র আলোচনার ঝড় উঠেছে।
আইন অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোকে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ বিতরণ করতে হয়। তা না হলে রিটেইন আর্নিংসে রাখা পুরো অংশের ওপর আরোপ হয় ১০ শতাংশ অতিরিক্ত কর। জেনেক্স ইনফোসিস নিজের সিদ্ধান্তে এখন সেই অতিরিক্ত কর হিসেবে গুনতে যাচ্ছে ২ কোটি ৫৩ লাখ টাকা—যা শেয়ারহোল্ডারদের সম্ভাব্য আরও ২.১০ শতাংশ লভ্যাংশের সমতুল্য হতে পারতো। ফলে শেয়ারহোল্ডার মহলে সৃষ্টি হয়েছে নতুন অসন্তোষ।
এর আগের অর্থবছরেও কোম্পানিটির আচরণ ছিল একই ধরনের। তখন নিট মুনাফা ছিল ৩১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা, যার বিপরীতে লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৩ শতাংশ। সেই বছরের মুনাফাও বড় অংশে জমা হয় রিটেইন আর্নিংসে। এবার মুনাফা আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১৭ শতাংশ কমলেও লভ্যাংশ কমিয়ে আনা হয়েছে একেবারে ১ শতাংশে, যা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে আরও অসঙ্গত সিদ্ধান্ত।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, কোম্পানির শক্তিশালী মুনাফা থাকা সত্ত্বেও ধারাবাহিকভাবে এত কম লভ্যাংশ দেওয়া শেয়ারহোল্ডারদের প্রতি দায়িত্বশীলতার ঘাটতি প্রকাশ করে। বিশেষ করে যখন দেখা যায় জেনেক্স ইনফোসিসে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মালিকানাই ৬৯.৯৫ শতাংশ, তখন লভ্যাংশ বিতরণে এ ধরনের সংকোচন বিনিয়োগকারীদের আস্থাকে আরও দুর্বল করে।
২০১৯ সালে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে কোম্পানিটি কয়েক বছর ধরেই লভ্যাংশ নীতিতে অত্যন্ত সংযত অবস্থানে রয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের লাভের অংশ সীমিত হচ্ছে, অথচ কোম্পানির রিটেইনড ফান্ড দিন দিন আরও ফুলে উঠছে।
বর্তমানে বিনিয়োগকারীদের বড় প্রশ্ন— জেনেক্স ইনফোসিস এত বড় অঙ্কের মুনাফা ধরে রাখছে কেন, এবং শেয়ারহোল্ডারদের ন্যায্য অংশ দিতে এত অনীহা কেন?
বাজারে এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অমীমাংসিত, তবে লভ্যাংশ নীতি নিয়ে জেনেক্সকে ঘিরে অসন্তোষ প্রতিদিনই বাড়ছে।
উল্লেখ্য ২০১৯ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া জেনেক্স ইনফোসিসের বর্তমানে ১২০ কোটি ৪৫ লাখ টাকার পরিশোধিত মূলধন রয়েছে। এরমধ্যে শেয়ারবাজারের বিভিন্ন শ্রেণীর (উদ্যোক্তা/পরিচালক ব্যতিত) বিনিয়োগকারীদের মালিকানা ৬৯.৯৫ শতাংশ।


