
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ বহু বছর ধরে লোকসানের অন্ধকারে পড়ে আছে। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরের নিরীক্ষিত রিপোর্ট এবার যে ভয়ংকর বাস্তবতা সামনে এনেছে— তা বিনিয়োগকারীদের মাঝেই নয়, পুরো বাজারেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। নিরীক্ষক সরাসরি জানিয়েছেন, কোম্পানিটির ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া গভীর শঙ্কার মুখে। শুধু ব্যবসার গতি কমেনি, বরং কোম্পানির টিকে থাকাই এখন বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন।
কোম্পানিটি চলতি অর্থবছরে নিট লোকসান করেছে ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা, শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২.৭৫ টাকা। আরও ভয়ংকর হলো— পরিচালন নগদ প্রবাহও ঋণাত্মক, মাত্র (০.০২) টাকা। অর্থাৎ কোম্পানি নিজের দৈনন্দিন কার্যক্রম চালানোর পর্যাপ্ত নগদ অর্থও জোগাড় করতে পারছে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে নিরীক্ষকের মন্তব্য ছিল অসাধারণ কড়া— “মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজের টিকে থাকার সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর সন্দেহ রয়েছে।” শেয়ারবাজারে এটিকে বিনিয়োগকারীরা সরাসরি রেড অ্যালার্ট হিসেবেই দেখছেন।
২০০১ সালে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে রয়েছে বিশাল ৫৬.৪৫ শতাংশ মালিকানা। অর্থাৎ কোম্পানি লোকসানের খাঁদে যতই গভীরে ডুবুক— সেই আঘাতের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি বহন করছেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই। বাজারে বুধবার (০৯ ডিসেম্বর) মেঘনা পেটের শেয়ারদর দাঁড়িয়েছে ২৩.৫০ টাকা, কিন্তু কোম্পানির ভেতরের আর্থিক অবস্থার সঙ্গে এই দামের কোনো মিল নেই বলেই বিশ্লেষকদের মত।
বাজার বিশেষজ্ঞরা আরও কঠোর ভাষায় বলেছেন— মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ বহু বছর ধরে ভাঙা ব্যবস্থাপনা, দুর্বল আর্থিক নিয়ন্ত্রণ, বাজারে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়া এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে ধ্বংসের মুখে চলে এসেছে। কোম্পানির লোকসান কাটিয়ে ওঠার কোনো কার্যকর পরিকল্পনা নেই। সবচেয়ে বিপজ্জনক বিষয় হলো— পরিচালন নগদ প্রবাহ নেতিবাচক থাকা মানে কোম্পানির ভিতরে অবিরাম রক্তক্ষরণ চলছে। অনেক বিশ্লেষক সোজাসাপটা বলেছেন— “এই নৌকা বহুদিন ধরেই ফুটো ছিল, এখন পুরোপুরি ডুবে যেতে বসেছে।”
নিরীক্ষকের মন্তব্য বাজারে তীব্র আলোড়ন তুলেছে। যারা বহুদিন ধরে এই শেয়ার ধরে রেখেছেন তাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কারণ কোনো কোম্পানির ‘গোইং কনসার্ন’ বা টিকে থাকার সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠা মানেই— সামনে আরও বড় বিপদ ধেয়ে আসছে। ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়, সরবরাহকারীরা আস্থা হারায়, উৎপাদন কমে যায়, আর শেষ পর্যন্ত বড় ক্ষতির মুখে পড়ে শেয়ারহোল্ডাররাই।
মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ এখন এমন এক দুঃস্বপ্নে আটকে গেছে যেখানে ভবিষ্যতের আলো দেখা যায় না। কোম্পানি বাঁচবে কি না— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেতে বিনিয়োগকারীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।


