
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ সারা দেশে মসজিদে মসজিদে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া বিভিন্ন মন্দির, গির্জায়ও বিশেষ প্রার্থনা সভা হয়েছে। সেইসঙ্গে এদিন তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হয়।
বিএনপির উদ্যোগে এদিন বাদ আসর রাজধানীর গুলশানে কেন্দ্রীয় আজাদ মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দারসহ পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।
নেতাদের মধ্যে অংশ নেন- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মীর নাছির, শামসুজ্জামান দুদু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, আসাদুজ্জামান রিপন, আবদুস সালাম, জয়নুল আবেদীন, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, রুহুল কবির রিজভী, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, এম এ কাইয়ুম, নজরুল ইসলাম আজাদ, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, আমিনুল হক, আব্দুল লতিফ জনি, মিয়া নূরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, ড্যাবের যুগ্ম মহাসচিব ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, এসএম জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
এছাড়াও নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অংশ নেন।
খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় বাদ জুমা রাজধানীর কলাবাগানের ভূতেরগলি জামে মসজিদে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির আন্তর্জাতিক-বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন আহমেদ অসীম। এছাড়া জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক। এতে অংশ নেন সাধারণ মুসলিরা।
খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এদিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে আলোচনা সভা ও মিলাদ-মাহফিলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রেখে যাওয়া লড়াই আমরা আগামীতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে অব্যাহত রাখব। এসময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির, সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ কেন্দ্রীয় ও ঢাবি শাখার বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
খালেদা জিয়ার রুহের শান্তি কামনায় বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ ও মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির যৌথ উদ্যোগে বিশেষ প্রার্থনা সভা হয়। এদিন সকালে শ্রীশ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণে বিশেষ প্রার্থনা সভা হয়। মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সহ-সভাপতি তাপস কুমার পালের সভাপতিত্বে এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিত তপন ভট্টাচার্যের পরিচালনায় প্রার্থনা সভায় বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি বাসুদেব ধর, গণফোরামের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ড. তাপস চন্দ্র পাল, শুভাশীষ বিশ্বাস সাধন, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক সমীর কুমার বসু প্রমুখ।
উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, কাজল দেবনাথ, জয়ন্ত সেন দীপু, মিলন কান্তি দত্ত, অশোক মাধব রায়, অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার, বাবুল দেবনাথ, পূরবী মজুমদার, অ্যাড. শ্যামল কুমার রায়, গোপাল দেবনাথ প্রমুখ। প্রার্থনা সভায় খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি ও সদগতি কামনা করা হয়।
এদিকে শোকের শেষ দিনেও শুক্রবার দেশজুড়ে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সরকারি-বেসরকারি ভবন ও বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত ছিল।


