
কক্সবাজারের উখিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর পৃথক মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়েছে।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত টানা অভিযানে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সর্বমোট ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ করে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন, পিএসসি।
প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে পালংখালী সীমান্তের আঞ্জুমান পাড়ার পানির পয়েন্ট এলাকায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা টহল জোরদার করলে মিয়ানমার দিক থেকে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করে। এসময় তাদের আটকানোর চেষ্টা করলে চোরাকারবারীরা একটি কালো ব্যাগ ও একটি শার্টে মোড়ানো পোটলা ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেগুলো তল্লাশি করে ৯টি খাকি প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী কাটে মোট ৯০ হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এরপর ৯ সেপ্টেম্বর ভোর থেকে একই সীমান্ত এলাকায় আরও একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। আনুমানিক সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে মিয়ানমার দিক থেকে দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সাঁতরে বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের দিকে অগ্রসর হয়। কিন্তু তারা সাঁতার কেটে মিয়ানমারে পালিয়ে যায়। এসময় তাদের ফেলে যাওয়া হস্ত চালিত নৌকা জব্দ করে বিজিবি। নৌকায় থাকা সাদা পলিব্যাগ তল্লাশি করে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো নীল রঙের বায়ুরোধী ১০ কাটে মোট ১ লাখ ইয়াবা পাওয়া যায়।
লে. কর্নেল মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন জানান, পালিয়ে যাওয়া মাদক চোরাকারবারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত সুরক্ষা এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করে আসছে। এসব অভিযানের মাধ্যমে উখিয়াবাসীর মধ্যে আস্থা ও স্বস্তি ফিরে এসেছে।


