
১২ দিনের যুদ্ধে আমেরিকা-ইসরাইলের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা ‘খালি হাতে ফিরে গেছে’—বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
ইরানের বিরুদ্ধে ইহুদিবাদী ইসরাইলের চালানো আগ্রাসন ছিল ২০ বছরের পরিকল্পনার অংশ- উল্লেখ করে খামেনি বলেন, ‘তারা এমন একটি যুদ্ধের পরিকল্পনা করেছিল যাতে তারা ইরানি জনগণকে উত্তেজিত করে, তাদেরকেও শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামাতে পারে। কিন্তু বিষয়টি উল্টো হয়ে যায় এবং তারা এমনভাবে ব্যর্থ হয়, এমনকি যারা ইরানি শাসন ব্যবস্থার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে তারাও সরকারের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং দেশে একটি সর্বজনীন ঐক্যের সৃষ্টি হয়’।
খামেনি বলেন, আমরাও কিছু ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি এবং যুদ্ধের স্বাভাবিক নিয়মে ইরানেও মূল্যবান জীবন হারিয়েছে। কিন্তু ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রমাণ করেছে, তারা দৃঢ় সংকল্প ও শক্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে সক্ষম। যার পেক্ষিতে শত্রুর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও ছিল অনেক বেশি।
ইরানি নেতা এ সময় গাজায় সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞের কথা উল্লেখ করেন, যা এই অঞ্চলের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ট্রাজেডির একটি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ইহুদিবাদী ইসরাইলে সম্মানহানি ও বদনাম হয়েছে।
তার ভাষায়, এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র দখলদার ইহুদিবাদীদের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং তারা নিজেরাও মারাত্মকভাবে সম্মানহানি ও কুখ্যাত হয়েছে। কারণ, বিশ্বের মানুষ জানে, যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া ইহুদিবাদী শক্তি এ ধরনের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম হতো না।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ইউক্রেন যুদ্ধকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের উসকানির আগুন’ অভিহিত করে বলেন, যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছিলেন তিন দিনে যুদ্ধ শেষ করবেন, তিনি এখন উল্টো ২৮ দফা চাপিয়ে দিতে চাইছেন। লেবানন, সিরিয়া ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলি হামলা এবং গাজার পরিস্থিতিও যুক্তরাষ্ট্রের অপরাধী সমর্থনের প্রমাণ।
জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে খামেনি আরও বলেন, ইরানে গড়ে ওঠা প্রতিরোধের সংস্কৃতি আজ বিশ্বজুড়ে বিশেষ করে ফিলিস্তিন, গাজা, এমনকি পশ্চিমা দেশগুলোতেও প্রভাব ফেলেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ও বর্তমান সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, দেশ পরিচালনা একটি কঠিন দায়িত্ব এবং সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে, যার ফল জনগণ শিগগিরই দেখতে পাবে।
তিনি বলেন, প্রতিরোধ, প্রযুক্তি, চিকিৎসা, শিল্প, গবেষণা, শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে যারা দেশকে সম্মানিত করছে—সংগঠনভুক্ত হোক বা না হোক—তারা সবাই বসিজের মূল ভাবনার ধারক।
বক্তৃতার শেষ পর্যায়ে তিনি ইরানি জনগণের প্রতি চারটি নির্দেশনা দেন। সেগুলো হলো- জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা, প্রেসিডেন্ট ও সরকারের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখা, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অপচয় পরিহার করা এবং দোয়া, তওবা ও আল্লাহর প্রতি আস্থা বৃদ্ধি।
তার মতে, অপচয় কমানো গেলে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কল্যাণমূলক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।
তথ্যসূত্র: মেহের নিউজ


