
শহীদুল ইসলাম শাহেদ,টেকনাফ প্রতিনিধি:
কক্সবাজারের টেকনাফ সদর হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী পাহাড় ও বাহাড়ছড়া ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পাহাড় গুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই বেশ কিছু ডাকাত দল অস্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করে টেকনাফ এলাকাতে স্থানীয় এবং পর্যটকদের অপহরণ, গুম, খুন, মানবপাচার ইত্যাদি অপরাধ করে আসছিল। এ সমস্ত স্বশস্ত্র ডাকাত দল গুলোই একই সাথে সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের সম্পৃক্ত। ৬৪ বিজিবি’র গোয়েন্দা দল বেশ কিছুদিন ধরেই এই ডাকাত দলগুলোর বিরুদ্ধে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যহত রেখে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে আনুমানিক ১৮০০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, হ্নীলা ইউনিয়নের আওতাধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) এর বিপরীতে রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকাতে কিছু ডাকাত সদস্য স্বশস্ত্র অবস্থায় রয়েছে। পরবর্তীতে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) একটি চৌকস দল অধিনায়কের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিকভাবে তিন স্তরের রণকৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, একটি দল সীমান্ত এলাকায়, একটি দল রঙ্গীখালী পাহাড় এলাকায় এবং অপর একটি দল কক্সবাজারগামী মেরিন ড্রাইভ এলাকায় অবস্থান নেয়। আনুমানিক রাত ২২৫০ ঘটিকায় ডাকাত দল রঙ্গীখালী এলাকার একটি পাহাড়ে দৃষ্টিগোচর হয় এবং সেখানে অবস্থানরত বিজিবি সদস্যরা তাদের সন্দেহজনক তৎপরতা লক্ষ্য করে। পরবর্তীতে এলাকাটি ঘিরে ফেলা হলে স্বশস্ত্র ডাকাত দলটি বিজিবি’র উপস্থিতি টের পেয়ে বিজিবি’র দিকে গুলি বর্ষণ করে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও পাল্টা গুলি বর্ষণ করে। এমতাবস্থায়, ডাকাত দলটি তাদের অস্থায়ী ঘাঁটি ত্যাগ করে সংলগ্ন অপর একটি পাহাড়ের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি টহল দল উক্ত অস্থায়ী ঘাঁটিতে তল্লাশি অভিযান পরিচালনা করে নিম্নবর্ণিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেঃ
ক। G-3 রাইফেল-০১টি।
খ। G-3 রাইফেল এর অংশ বিশেষ-০১টি।
গ। G-3 রাইফেল এর ম্যাগাজিন-০১টি।
ঘ। ওয়ান শুটার গান-০৪ টি।
ঙ। এলজি শুটার গান-০১টি।
চ। MA-1( Verient MK2)-০১টি ।
ছ। একনলা গাদা বন্দুক (লং ব্যারেল) -০১ টি।
জ। সিলিং-০২টি।
ঝ। আর্জেস হ্যান্ড গ্রেনেড-০৩ টি (লিভারসহ)।
ঞ। মর্টারের গোলা-০১টি।
ট। গান পাউডার-১৭ কেজি।
ঠ। হাত বোমা তৈরীর উপকরন-১০টি।
ড। চাপাতি-০৮টি।
ঢ। ছুরি-০৫টি।
ণ। কাঁচি-০১টি।
সর্বমোট গুলি-৩০২ রাউন্ড (১৪২ রাউন্ড এমজি, ১৩২ রাউন্ড রাইফেল/এসএমজি, ০১ রাউন্ড পিস্তল, ০৬ রাউন্ড ওয়ান শুটারের ছড়াগুলি এবং ২১ রাউন্ড M-1)
থ। বিভিন্ন অস্ত্রের গুলির খালি খোসা-৫৪ রাউন্ড ।
প্রাথমিক তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, এই ডাকাত দল উপরোক্ত অস্ত্রের মুখে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ করে আসছিল। সংগত কারনেই তাদের বিরুদ্ধে ৬৪ বিজিবি’র এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান। উল্লেখ্য, গত ০১ মার্চ ২০২৫ তারিখে পতাকা উত্তোলনের পরে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) চোরাচালান নিরোধ অভিযান ও অস্ত্র উদ্ধারে বরাবরই সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। এই পর্যন্ত সর্বমোট ১১৯,৪৬,১৮,০৮০/- টাকার ৩৯,৮২,০৬০ পিস ইয়াবা, ৮৯,০৪৭/- টাকার ২৫.৪৬ কেজি গাঁজা, ৬,২২৫/- টাকার ২০.৭৫ লিটার বাংলা মদ, ২,৫২,০০০/- টাকার ১০০৮ ক্যান বিয়ার এবং ১৪,০০০/- টাকার ৩৫ বোতল ফেন্সিডিলসহ ৮৮ জন আসামীকে আটক করে। এছাড়াও, ওয়ান শুটার গান-০৪ টি, বিদেশী রিভালবার ০১ টি, একনলা গাদা বন্দুক ০৫ টি, আর্জেস হ্যান্ড গ্রেনেড ১০ টি, মর্টার শেল ০২ টি, অক-৪৭-০১ টি, এলজি গান ০১ টি, ক্রিচ লং বডি ০২ টি, বিদেশী অস্ত্র (UZI) ০২ টি, ম্যাগাজিন ১২ টি এবং বিপুল পরিমানের গুলি ও দেশীয় অস্ত্রসহ ০৩ জন আসামীকে ইতিপূর্বে আটক করা হয়।
বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সর্বদা অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের গোয়েন্দা-নির্ভর ও সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীনস্থ উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) সদা জাগ্রত অতন্দ্র প্রহরী থেকে সীমান্ত নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণের বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছে। উখিয়া ব্যাটালিয়ন সীমান্ত সুরক্ষা ছাড়াও চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃ রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধ দমনে যথাযথ ও কার্যকরীভাবে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে বেসামরিক পরিমন্ডলে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছে।


